শিরোনাম:
খুনিদের ফাঁসি হোক, নিরীহ আওয়ামী লীগের ক্ষতি যেন না হয় : এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী মতলব উত্তরে ডাকাতি মামলার আসামি’সহ গ্রেপ্তার ৩ ১০ সন্তান থেকেও আশ্রয়ের অনিশ্চয়তায় ৮০ বছরের জয়নব, দুই মাসের ব্যবস্থা করলেন ইউএনও জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার, অপপ্রচারের প্রতিবাদে জামায়াত নেতার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন মতলবে উত্তর বাইশপুর গণ কবরস্থানের কমিটি গঠন শাহরাস্তির কাদরায় ৬ ছেলের ঘরে ঠাঁই হলো না ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মায়ের মতলব উত্তরে যুবলীগ নেতা ও এনজিও কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার, আটক ৮ কিশোর মতলবে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী আটক মতলব উত্তরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: মাদক ও পরোয়ানার ৭ আসামি গ্রেপ্তার দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপি নেতা তানভীর হুদা

নানা সংকটে জর্জরিত চাঁদপুরের খাঁচায় মাছ চাষীরা

reporter / ৪১৭ ভিউ
আপডেট : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রিয়ন দেঃ  খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, পানি দূষণ এবং মাছের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় নানা সংকটে জর্জরিত হয়ে দিশেহারা চাঁদপুরের আড়াই হাজার ভাসমান খাঁচায় মৎস্য চাষী। তাদের এমন হতাশা কাটাতে স্বল্প সুদে ঋণদানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত তদারকির দাবী চাষীদের।
৫ সেপ্টেম্বর সোমবার সরজমিনে শহরের পুরানবাজার, নতুনবাজার, রঘুনাথপুরের খাঁচায় মাছচাষিদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়,২০০২ সালে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি শুরু হয়। তবে অন্য সকল পদ্ধতি অপেক্ষা ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ অনেকটা লাভজনক ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ক্রমান্বয়ে তা ডাকাতিয়ার পাশাপাশি জেলার পদ্মা, মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতেও এর সংখ্যা প্রথমে বেড়েই চলছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে খাদ্যের দাম অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বৃদ্ধি, নদীতে পতিত হওয়া কল কারখানার দূষিত বর্জ্য, অপরিকল্পিত জাঁক ও পঁচা কচুরিপানা নদীর পানিকে দূষিত করায় খাঁচার মাছ হঠাৎ করে মরে যাওয়া ও মাছের ন্যায্য দাম বাজারে না পাওয়ায় দিন দিনই আগ্রহ হারাচ্ছেন খাঁচায় মাছ চাষিরা। এতে করে গত এক বছরে প্রায় শতাধিক খাঁচা বন্ধ হয়ে গেছে।
শহরের রঘুনাথপুরের খাঁচায় মাছচাষি আলমগীর বলেন, আমি ডাকাতিয়া নদীতে ৪শ’ খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ শুরু করি। ২০১৯ সালের পর নানা সংকটে আমার এখন ১শ’ খাঁচা আছে। তাই সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে আমাদের খাঁচায় মাছ চাষ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পুরানবাজারের ডাকাতিয়ায় আরেক খাঁচায় মাছচাষী শাহনাজ আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের থেকে স্বল্প  সুদে খাঁচায় মাছ চাষীদের যদি ঋণ দেওয়া হতো তাহলে আমরা খাঁচায় মাছ চাষিরা খাঁচায়টা একটু বড় করতে পারতাম। পাশাপাশি আমরা খাঁচায় মাছ চাষ করে দেশের আমিষের চাহিদা ও ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারতাম।
খাঁচায় মাছচাষী আরিফ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যের দাম বস্তাভর্তি ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় মাছের দাম বাড়ে নাই। আমরা কোনো রকম টিকে আছি। এখন খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসলে আমাদের এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।
একইভাবে আরো বেশ কয়েকজন খাঁচায় মাছ চাষিরা বলেন, বিভিন্ন কল-কারখানার ময়লা পানিকে দূষিত করে নষ্ট করার কারনে ডাকাতিয়া নদীর খাঁচায় অনেক মাছ মারা যায়। আমরা মৎস্য কর্মকর্তাকে বলেও পরিদর্শনে আনতে পারিনা। তাই এ চাষকে টিকাতে সংশ্লিষ্টদের সুনজর কামনা করছি।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সহজতর হওয়ায় খাঁচায় মাছ চাষ চাঁদপুরে বেশ জনপ্রিয়। তাই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাত্র ৫৭৮ জন খাঁচায় মাছ চাষী ছিলো। তখন উৎপাদন ছিলো মাত্র ২২৭ মে. টন। আর খাঁচার মোট আয়তন ছিলো ১০৭৩৯ ঘণমিটার। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরে খাঁচায় মাছ চাষি বেড়ে ২৪৪০ জন হয়েছে। যেখানে মাছের উৎপাদন হয়েছে ১০০৪ মে. টন। খাঁচার মোট আয়তন ৪৫ হাজার ৩শ’ ৩৫ ঘণমিটার। তবে খাঁচার দৈর্ঘ ১৮.৫৮ ঘণমিটার অপরিবর্তিত রয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, খাঁচার মাছ খুব সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। তবে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে চাষিরা কষ্টে আছে। আমরা তাই সরকার কাছে আবেদন করেছি কৃষির মতো মাছের খাদ্যের দামেও যাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলো থেকেও যাতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়। আমরা জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও ঘুরে ঘুরে সকল খাঁচায় মাছ চাষীদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে তাদের পাশে রয়েছি।


এই বিভাগের আরও খবর