শিরোনাম:
পচা দুর্গন্ধে ৯৯৯-এ ফোন, ফরিদগঞ্জে তরুণের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার মতলব প্রেসক্লাবের সদস্য সোবহান ফারুক বেঁচে নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক ‎মতলব উত্তরে দুর্বৃত্তদের আগুনে দোকান পুড়ে ছাই হত্যা করে মাকে কলাবাগানে ফেলে রাখে ছেলে, ৮ দিন পর গ্রেপ্তার শাহমাহমুদপুরের সাবেক চেয়ারম্যান  অ্যাড: তাহের হোসেন রুশদী’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের জোরালো দাবি চাঁদপুরে ‘সচেতনতা ও সুরক্ষা ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে এতিম ভাতিজী’র সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগ আপন জেঠার বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে তালাক দিতে সাজানো মামলা শ্বশুরের! ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অ**গ্নী***কাণ্ডে ১১টি পরিবারের বসতঘর পু**ড়ে ছাই

নানা সংকটে জর্জরিত চাঁদপুরের খাঁচায় মাছ চাষীরা

reporter / ৩৭৩ ভিউ
আপডেট : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

রিয়ন দেঃ  খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, পানি দূষণ এবং মাছের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় নানা সংকটে জর্জরিত হয়ে দিশেহারা চাঁদপুরের আড়াই হাজার ভাসমান খাঁচায় মৎস্য চাষী। তাদের এমন হতাশা কাটাতে স্বল্প সুদে ঋণদানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত তদারকির দাবী চাষীদের।
৫ সেপ্টেম্বর সোমবার সরজমিনে শহরের পুরানবাজার, নতুনবাজার, রঘুনাথপুরের খাঁচায় মাছচাষিদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়,২০০২ সালে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি শুরু হয়। তবে অন্য সকল পদ্ধতি অপেক্ষা ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ অনেকটা লাভজনক ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ক্রমান্বয়ে তা ডাকাতিয়ার পাশাপাশি জেলার পদ্মা, মেঘনা ও ধনাগোদা নদীতেও এর সংখ্যা প্রথমে বেড়েই চলছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে খাদ্যের দাম অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বৃদ্ধি, নদীতে পতিত হওয়া কল কারখানার দূষিত বর্জ্য, অপরিকল্পিত জাঁক ও পঁচা কচুরিপানা নদীর পানিকে দূষিত করায় খাঁচার মাছ হঠাৎ করে মরে যাওয়া ও মাছের ন্যায্য দাম বাজারে না পাওয়ায় দিন দিনই আগ্রহ হারাচ্ছেন খাঁচায় মাছ চাষিরা। এতে করে গত এক বছরে প্রায় শতাধিক খাঁচা বন্ধ হয়ে গেছে।
শহরের রঘুনাথপুরের খাঁচায় মাছচাষি আলমগীর বলেন, আমি ডাকাতিয়া নদীতে ৪শ’ খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ শুরু করি। ২০১৯ সালের পর নানা সংকটে আমার এখন ১শ’ খাঁচা আছে। তাই সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে আমাদের খাঁচায় মাছ চাষ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
পুরানবাজারের ডাকাতিয়ায় আরেক খাঁচায় মাছচাষী শাহনাজ আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের থেকে স্বল্প  সুদে খাঁচায় মাছ চাষীদের যদি ঋণ দেওয়া হতো তাহলে আমরা খাঁচায় মাছ চাষিরা খাঁচায়টা একটু বড় করতে পারতাম। পাশাপাশি আমরা খাঁচায় মাছ চাষ করে দেশের আমিষের চাহিদা ও ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারতাম।
খাঁচায় মাছচাষী আরিফ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর খাদ্যের দাম বস্তাভর্তি ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় মাছের দাম বাড়ে নাই। আমরা কোনো রকম টিকে আছি। এখন খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসলে আমাদের এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।
একইভাবে আরো বেশ কয়েকজন খাঁচায় মাছ চাষিরা বলেন, বিভিন্ন কল-কারখানার ময়লা পানিকে দূষিত করে নষ্ট করার কারনে ডাকাতিয়া নদীর খাঁচায় অনেক মাছ মারা যায়। আমরা মৎস্য কর্মকর্তাকে বলেও পরিদর্শনে আনতে পারিনা। তাই এ চাষকে টিকাতে সংশ্লিষ্টদের সুনজর কামনা করছি।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সহজতর হওয়ায় খাঁচায় মাছ চাষ চাঁদপুরে বেশ জনপ্রিয়। তাই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাত্র ৫৭৮ জন খাঁচায় মাছ চাষী ছিলো। তখন উৎপাদন ছিলো মাত্র ২২৭ মে. টন। আর খাঁচার মোট আয়তন ছিলো ১০৭৩৯ ঘণমিটার। কিন্তু ২০২০-২১ অর্থবছরে খাঁচায় মাছ চাষি বেড়ে ২৪৪০ জন হয়েছে। যেখানে মাছের উৎপাদন হয়েছে ১০০৪ মে. টন। খাঁচার মোট আয়তন ৪৫ হাজার ৩শ’ ৩৫ ঘণমিটার। তবে খাঁচার দৈর্ঘ ১৮.৫৮ ঘণমিটার অপরিবর্তিত রয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, খাঁচার মাছ খুব সুস্বাদু হওয়ায় এর চাহিদা বাড়ছে। তবে খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও অন্যান্য কিছু বিষয় নিয়ে চাষিরা কষ্টে আছে। আমরা তাই সরকার কাছে আবেদন করেছি কৃষির মতো মাছের খাদ্যের দামেও যাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলো থেকেও যাতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হয়। আমরা জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও ঘুরে ঘুরে সকল খাঁচায় মাছ চাষীদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে তাদের পাশে রয়েছি।


এই বিভাগের আরও খবর