মোঃ হাছান আলীঃ
ফরিদগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ভবন হস্তান্তরের আগেই কলাম ও দেয়ালের ওপর ফাঠল ফুটে উঠেছে। দেয়ালের রং ঝরে পড়ছে। দরজার পাল্লা বাঁকা হয়ে গেছে। কাজের নিম্নমানসহ অসংখ্য ফাটল ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞজনরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম কাঁশারা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা। চারতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করেছে সরকারের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ভবনের নিম্নমান নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলার ৭নং পাইকপাড়া (উত্তর) ইউপিতে অবস্থিত কাঁশারা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা। সরকারের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিনে চারতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর তারিখ ছিল ৪-১২-২০১৯। সমাপ্তির তারিখ ছিল ১৯-০৫-২০২১। এ রিপোর্ট তৈরির সময় ২০২৩ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন হস্তান্তর হয়নি। অথচ হস্তান্তরের আগেই ভবনের পশ্চিম প্রান্তে সামনের দিকে একটি কলমে ফাটল দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি দেয়ালের ওপর অসংখ্য ফাটল দেখা ফুটে উঠেছে। দরজার পাল্লা ও চৌকাঠ অধিকাংশ বাঁকা হয়ে গেছে।
মাদরাসার সুপার শাহ আলম বলেছেন, কলাম ও দেয়ালে ফাটল, পাল্লা বাঁকা হয়ে যাওয়া আমিসহ অনেকেই দেখেছে। কি কারণে ফাটল হয়েছে এ বিষয়ে আমি বলতে পারব না। ইঞ্জিনিয়ার বলতে পারবেন। আমাদের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ভবন হস্তান্তর করছেন না ঠিকাদার। কি কারণে দেরি হচ্ছে আমি জানেন না। যে অংশে কলামে ফাটল সেখানে নীচে ডোবা ছিল।
কয়েকজন প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেইজ ও গ্রেড বিম তৈরির সময় মাটি ফেলে ভালভাবে না বসার আগে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে কলামে ফাটল হতে পারে। তারা আরো বলেছেন দেখা গেছে রাজ মিস্ত্রীরা প্লাস্টার লাগানোর সময় বালি ও সিমেন্টের গুড়ো ছিটিয়ে দেয়। এছাড়া দেয়াল নির্মানের পর সঠিক পরিমাণে দেওয়া হয়নি পানি। এ সব কারণে প্লাস্টারের ওপর ফাটল হয় ও রং উঠে যায়। ওই ফাটল দিয়ে ভবিষ্যতে ময়েশ্চার চুষে প্লাস্টারের ফাটল বেড়ে যেতে, প্লাস্টার খুলে পড়তে ও দেয়ালে ফাটল ধরতে পারে। ভিজা কাঠ ও পানিতে সিজনিং করা না হলে দরজা ও জানালার পাল্লা বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে ঠিকাদার আবদুল মতিন বলেছেন এগুলো কোন সমস্যার মধ্যে পড়ে না। আপনাদের যা ইচ্ছা লেখেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাৎ হোসাইন মজুমদারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, যে সমস্যাগুলো আপনারা দেখেছেন এগুলো কোন সমস্যা না। এগুলো প্রতিষ্ঠানের কোন ক্ষতি করবে না। কি কারণে আপনারা এগুলো লেখালেখির মধ্যে আনতেছেন আমি বুঝি না। আপনি যদি লিখতে চান তাহলে লিখতে পারেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফাহিম ইকবালকে বহুবার কল দেওয়া হয়েছে। তিনি কল রিসিভ করেননি।