শিরোনাম:
অসহায় ও দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে ছাত্র হিযবুল্লাহর শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার্থী বৃদ্ধি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ঘাসিরচরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা মতলব উত্তরে শীতার্তদের পাশে ‘নবজাগরণ ঐক্য ফাউন্ডেশন’ মতলবে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, মালামাল লুট মতলব দক্ষিণে পরিত্যক্ত রান্নাঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার মতলব উত্তরে খেলাফত মজলিসের বিক্ষোভ মিছিল মতলব দক্ষিণে ভেটেরিনারি ফার্মেসীগুলোতে অভিযান, চাঁদপুরে সম্পত্তিগত বিরোধ : হাতুড়ির আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু মতলবে সরকারি গাছ নিধন: বনবিভাগ-এলজিইডির দোষারোপে জনরোষ মতলব উত্তরে নিশ্চিন্তপুর ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ফরিদগঞ্জে শিশু সোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন

reporter / ২৯২ ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩

ভারতীয় সিরিয়াল দেখে মুক্তিপণ আদায় করতেই হত্যা করে গৃহশিক্ষক
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার রুদ্রগাঁও তালুকদার বাড়ীর আনোয়ার হোসেনের শিশু পুত্র আদিল মোহাম্মদ সোহান (৮) হত্যার রহস্য ও ঘটনায় জড়িত কিশোর অপরাধী মো. আবদুল আহাদ (১৭) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আহাদ ভারতীয় টিভি সিরিয়াল সিআইডি দেখে শিশু পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাটিতে পুতে রাখে বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়।
বুধবার (২৪ মে) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিলন মাহমুদ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
আটককৃত কিশোর ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুদ্রগাঁও তালুকদার বাড়ির শরীফ তালুকদারের ছেলে মো. আবদুল আহাদ (১৭)। সে শিশু আদিল মোহাম্মদ সোহানের গৃহ শিক্ষক ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ মে সন্ধ্যা অনুমানিক ৭টার সময় ভিকটিম আদিল মোহাম্মদ সোহান (৮) বাড়ির পাশের মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ শেষে তার নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। পরে তার পিতা আনোয়ার হোসেন ফরিদগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করে।
পুলিশ তদন্তকালীন সময় গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর চাচি রেনু বেগম গরুর ঘাসের চাষকৃত নাল জমির পূর্ব পাশে কাঁচা গাব পাড়ার জন্য যায়। সেখানে দুর্গন্ধ ও মাছির উপদ্রব দেখতে পেয়ে সবাইকে অবহিত করেন। পরে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে এসে মাটির নিচে চাপা দেওয়া একটি শিশুর হাত দেখতে পায়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপ্স) পলাশ কান্তি নাথের নেতৃত্বে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থি হয়ে শিশুটির মৃতদেহ উত্তোলন করে। তখন নিখোঁজ শিশু আদিল মোহাম্মদ সোহানের বাবা-মা মৃতদেহটি তাদের সন্তানের বলে শনাক্ত করে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, পুলিশের সমন্বিত একটি টিম চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের গৃহ শিক্ষক মো. আবদুল আহাদ (১৭ বছর ৬ মাস) কে গ্রেফতারপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।
গৃহ শিক্ষক আবদুল আহাদের পরিবার অভাবী পরিবার ছিল। শিশু সোহানের পরিবারের কাছে ২৫-২৬ হাজার টাকা জমানো ছিল। এই বিষয়টি আহাদ জানতো। মূলত ভারতের সিআইডি থেকে মুক্তিপনের টাকা জন্য সোহানকে অজ্ঞান করে লুকিয়ে রাখে আহাদ। কিন্তু সে সিআইডিতে দেখেছে কাউকে ৪০ সেকেন্ড নাকে চেপে ধরে রাখলে মরবে না কিন্তু সে অজ্ঞান থাকবে। তবে দুর্ভাগ্যবশত টাইম কিংবা ধরতে সমস্যা হওয়ায় শিশু সোহান তাৎক্ষণিক সেখানে মারা যায়।
পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, শিশু সোহানকে হত্যার পর সে নিজেও সবার সাথে খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু সে হত্যা করে যেখানে রেখে এসেছে, সেখানে না গিয়ে অন্যত্র খোঁজাখুঁজি করে। ১৯ মে যখন লাশ পাওয়া গেল তখনও সে কি হত্যা করতে পারে, এমন তথ্য আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। খুন করার পর সোহানের মাকে ফোন করেছিল। তার ছেলেকে পেতে হলে টাকা দিতে হবে। কিন্তু সেই ফোনটি বাড়িতে রেখে যায়। খোঁজাখুঁজি কারণে কলটি রিসিভ হয়নি এবং টাকা চাওয়ার বিষয়টি বলতে পারেনি।
পুলিশ সুপার আরো জানান, সোহানের লাশ কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ে মাটিতে পুঁতে রাখে গৃহ শিক্ষক আহাদ। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে আহাদের মায়ের ফোন ব্যবহার করে অন্য একটি সিম ব্যবহার করার সূত্র ধরে। এছাড়া তার আচার-আচরণও সন্দেহজনক হয়েছিল। আমাদের প্রথম থেকেই ধারণা হয়েছিল, হত্যার পিছনে দূরের কোন ব্যক্তির হাত নেই। এখানে কাছের কেউ হত্যার সাথে জড়িত।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) পলাশ কুমার নাথ, ডিআইও- ১, মনিরুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মান্নানসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।


এই বিভাগের আরও খবর