হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীতে নিষিদ্ধ ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট
মো. মজিবুর রহমান রনিঃ
হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুরে ডাকাতিয়া নদীতে নিষিদ্ধ ড্রেজার বসিয়ে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। হাজীগঞ্জ এবং শাহরাস্তি দুই উপজেলার সীমা রেখার অজুহাত দেখিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।
উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর বাজারে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে ড্রেজার বসিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসছেন শাহরাস্তি উপজেলার শোরশাক গ্রামের মনির হোসেন ও আজাদ হোসেন নামের এই দুই ব্যক্তি। গন্ধর্ব্যপুর বাজারের পাশে এ বালু উত্তোলন কার্যক্রম করে আসছে।
ডাকাতিয়া নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় নদী ভাঙ্গণে হুমকিতে রয়েছে সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে প্রায় অর্থ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গন্ধর্ব্যপুর বাজারের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতে শাহরাস্তি উপজেলার শোরসাক গ্রামের আব্দুল আজিজ ও মনির হোসেন নিষিদ্ধ মিনি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এ বালু দিয়ে স্থানীয় গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের তিনটি পুকুর ডোবা ও কৃষি জমি ভরাট করা হয়েছে।
নদী থেকে বালু উত্তোলন করে একটি পক্ষ লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা।
এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় কৃষকরা হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও কোন সূরাহা পায়নি।
কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর উদ্যোগে ডাকাতিয়া নদীটি ড্রেজিং করা হয়। এর কিছুদিন না জেতেই ড্রেজার ব্যবসায়ী আজিজ ডাকাতিয়া নদীতে ড্রেজার বসায়।
স্থানীয়রা বাঁধা দিতে আসলে মামলা হামলা এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানির ভয় দেখায় আজিজ ও মনির এবং তার লোকেরা। অবাধে ডাকাতিয়া নদী থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে বালু উত্তোলন করে আসলেও প্রশাসনিক সহযোগিতা না পাওয়ার কথা জানার স্থানীয় সেচ পাম্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মমিন।
ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
ইউপি সদস্য ফিরোজ আহম্মেদ হীরা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবের নির্দেশে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের ড্রেজার মেশিন বন্ধ করতে বলি। ডাকাতিয়া নদীর শাহরাস্তি অংশ থেকে তারা বালু উত্তোলন করেন বলে ড্রেজার ব্যবসায়ী জানান। তিনি আমার কথার কোন তোয়াক্কা করেনি।
হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ডাকাতিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন করার বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি ঢাকায় থেকে গিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।