শিরোনাম:
হবিগঞ্জে ৪১৩তম রোভার স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্স সম্পন্ন শাহরাস্তিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ১৫ ভরণ-পোষণের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে আফিয়া, স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া, নিম্নমানের খাবার ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন আইন ভাঙলেই ছাড় নয়: জুলাইয়ে চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের ১,২৮৫ মামলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা অঞ্জনা খান মজলিশ: পারিবারিক রাজনীতির বলির পাঁঠা, তবুও নীতিতে দৃঢ় মতলব উত্তরে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার চাঁদপুরে স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড পোর্টাল ওয়ার্কশপ ফরিদগঞ্জে চুরির আতঙ্ক: এক সপ্তাহে ২০টির বেশি ঘটনা, নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন চাঁদপুর ডিবির জালে বাঘ শাহজাহান

এখন আর দেখা মিলেনা বিনোদন ও সংবাদের একমাত্র ঐহিত্যবাহী রেডিও

reporter / ৫৪৩ ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
এক সময় রেডিও ( বেতার) ছিলো একমাত্র (সংবাদ) বিনোদন মাধ্যম। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় জনপ্রিয় এই যন্ত্রটি হারিয়ে গিয়েছে প্রায়। তবে বাংলার বুকে রেখে গেছে স্মৃতিময় অধ্যায়।

বর্তমানে মতলব উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেও রেডিওর দেখা পাওয়া প্রায় দুষ্কর হয়েছে। হাতেগোনা কিছু ঘরে রেডিও থাকলেও তা আজ বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহিত হচ্ছে। অনেকে স্মৃতি হিসেবে সাজিয়ে রেখেছে শোকেস, বা ডেসিন টেবিলে।

গ্রামের বয়জৈষ্ঠদের মাধ্যমে জানা যায়, তাঁদের সময়ে নানা অনুষ্ঠান, বিনোদন ও খেলার ধারাবর্ণনা ছাড়াও আবহাওয়া, রাজনৈতিক খবরাখবর শোনার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই রেডিও।
বিশেষ করে উপকূলবাসীদের আবহাওয়ার খবর জানার প্রধান যন্ত্র ছিল এটি। এছাড়া জেলে সম্প্রদায় যারা গভীর সাগরে মাছ শিকার যেত তারা আবহাওয়ার খবর শুনতে ব্যবহার করতো রেডিও।

৫১ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯এর গন অভ্যুত্থান ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার মানুষের খবরের একমাত্র বাহন ছিলো এই রেডিও। মুক্তিযুদ্ধের ডাক, মুক্তিযুদ্ধের প্রতিদিনের খবর, যোদ্ধাদের সাহস, সন্মান দেখিয়ে দেশাত্ববোধক গান, স্বাধীনতার ঘোষণা এই সকল কিছু দেশ বাসীর মাঝে পৌঁছে দেওয়ার একমাত্র বাহন ছিলো রেডিও। তৎকালীন সময়ের মানুষ গুলোই রেডিও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারছে।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার হিসেবে দেওয়া হতো এটি। এমন কি সদ্য নতুন জামাই কেউ দেয়া হত।  তখন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদের কাছে রেডিওর বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

বেতার শ্রোতারা বেশিরভাগ সময় নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, জারি ,সারি, ভাটিয়ালী, গানের ডালি, দুর্বার, সুখী সংসার, দর্পণ, বাংলা ছায়াছবির গান, নাটক শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন।

আধুনিকতার সুবাদে এখন সকলের হাতে হাতে মোবাইলফোন, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট পৌঁছে বিলুপ্ত হয়েছে রেডিও। গ্রামগঞ্জে এখন রেডিও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিছু প্রবীণ মানুষের কাছে রেডিওতে বিবিসির খবর শোনা এখনো পছন্দনীয়।

অদূর ভবিষ্যতে বাচ্চারা বইতে বেতারযন্ত্রের নাম পেলেও বাস্তবে দেখতে পাবে না।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে উপজেলার জোড়খালী গ্রামের নাজমুল প্রধানের ঘড়ে রেডিও এর সন্ধান পাওয়া যায়। রেডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে, আমি যেদিন থেকে রেডিও কিনি এটা আমার চলার সঙ্গী। ছোট বেলায় এই রেডিও একবার আমার মামাতো ভাই নিয়ে গেলে, আমার কান্নার ঢোল দেখে কে।

ছোটকাল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু জানা তার প্রায় সব এই রেডিও এর কারনে। কত আনন্দ নিয়ে এখনো বিবিসি নিউজ শুনি। এই রেডিও পরবর্তী প্রজন্ম বইতে লিখা কিংম্বা ছবিতে দেখতে পাবে, বাস্তবে না।


এই বিভাগের আরও খবর